রাজনীতির সাময়িক স্বার্থে বিভক্তি ও তিক্ততা বাড়ালে বহু রাজ্য, বহু ধর্ম ও বহু জাতির দেশ ভারতের জন্যই তা আখেরে বুমেরাং হবে

মিজানুর রহমান মিলন : আসামের অর্থমন্ত্রী হেমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেছেন, ‘এনআরসি থেকে বাদ পড়াদের ফিরিয়ে নিতে আমরা বাংলাদেশের সঙ্গে কথা বলবো। বাংলাদেশের সরকার ভারতের বন্ধু। তারা আমাদের সহযোগিতা করছে।’ এতোক্ষণে অরিন্দম কহিলা বিষাদে! আর এক রোহিঙ্গা উপাখ্যান শুরুর দ্বারপ্রান্তে। ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার যতোই বলুক না কেন এনআরসির তালিকা করায় বাংলাদেশে কোনো প্রভাব পড়বে না তা ডাহা মিথ্যা কথা ছাড়া কিছুই নয়, ¯্রফে ধোঁকাবাজি। যেখানে বাঙালি ও বাংলাদেশি শব্দদ্বয় জড়িত সেখানে শুধু ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় হয়ে থাকতে পারে না। ভারত অভ্যন্তরীণ ব্যাপার বলে দায় এড়ানোর জন্য, সুযোগের অপেক্ষায় আছে পুশ করার। বাংলাদেশ সরকারের সতর্ক থাকার পাশাপাশি কড়া প্রতিক্রিয়া জানানো উচিত। এনআরসি তালিকা করায় ভারতের নিন্দা করা উচিত। কোনো সভ্য দেশ সভ্য সমাজ এটা করতে পারে না।

৪৭-এ দেশভাগের পর থেকে কিছু মানুষ ওপারে যেমন গেছে তেমনি ওপার থেকে কিছু মানুষ এপারে এসেছে। কিছুটা পার্থক্য তো রয়েছে। এদেরকে যদি উভয় দেশ তাড়িয়ে দেয় এরা যাবে কোথায়? তবে প্রজন্ম ধরে যারা যে দেশে বসবাস করছে তারা সেই দেশের নাগরিক এটাকেই মানদ- ধরতে হবে।

যাদের জন্ম যেখানে তারাও সেখানকার নাগরিক। এনআরসির তালিকা ভারত সরকার কোন মানদ-ের ভিত্তিতে করেছে তা আমার জানা নেই। জানা গেছে বাবা এনআরসির তালিকায় আছে, কিন্তু তার ছেলেমেয়ে কেউ সেই তালিকায় নেই। স্বামীর নাম আছে স্ত্রীর নেই, স্ত্রীর আছে স্বামীর নেই। ছেলেমেয়ের নাম আছে বাবা-মায়ের নাম নেই। আবার ৩০ বছর সামরিক বাহিনীতে চাকরি করার পরও এনআরসির তালিকায় নাম আসেনি! ভারত তো এক রাজ্য, এক ধর্ম ও এক ভাষার দেশ নয়। পার্শ্ববর্তী রাজ্যের কারও সঙ্গে পার্শ্ববর্তী রাজ্যের কারও বিয়ে তো নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা, বিশেষ করে প্রতিটি রাজ্যের সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে এটা অহরহ ব্যাপার। তালিকা করার সময় অনেক মহিলা এজন্যই নাকি বাদ পড়েছে। কি বিস্ময়কর এরা সবাই বাংলাদেশের নাগরিক হয়ে গেলো।
বাংলাদেশের কথায় ধরুন। এনআইডি করার আগে যদি বলা হতো প্রমাণ করেন আপনি বাংলাদেশের নাগরিক? বাংলাদেশের কতোজন মানুষ তা প্রমাণ করতে পারতেন? নিশ্চয় সংখ্যাটা চৌদ্দ বা ষোলো আনা হতো না। তাহলে আমাদের কি উচিত হতো এই বিশাল জনসংখ্যাকে নাগরিকত্ব বঞ্চিত করে তাদের কনসেনট্রেশন ক্যাম্পে রেখে দেয়া অথবা দ্বিতীয় কোনো দেশে পাঠানোর চেষ্টা করা? এটা কি মানবিক কাজ? বিশাল সংখ্যক মানুষের মৌলিক অধিকার হরণ করে একই সঙ্গে নিজেকে আধুনিক ও সভ্য দাবি করা যায় না। সেই রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে কারও গর্ব করার কিছুই থাকে না।

এখন তো দেখা গেলো যে উদ্দেশ্যে এনআরসি করা তা পুরোপুরি বিফলে গেলো। তবে ভুল সংশোধন করার সময় আছে। ভারত সরকারকে বাস্তবতা মেনে নিতে হবে। রাজনীতির সাময়িক স্বার্থে বিভক্তি ও তিক্ততা বাড়ালে বহু রাজ্য, বহু ধর্ম ও বহু জাতির দেশ ভারতের জন্যই আখেরে বুমেরাং হবে তা পরিষ্কার।
হেমন্ত বিশ্ব শর্মার কথায় ফিরে আসি। শুধু ১৯ লাখ বাংলা ভাষী কেন? আমাদের ভারতের বাংলা ভাষী জেলাগুলো দিয়ে দিন। বাংলা ও বাঙালি মিলেমিশে একাকার হয়ে যাক। আপনাদের বোঝা পুরোদমে হালকা করে দেবো আমরা। দেরিতে হলেও ৪৭-এর মূল প্রস্তাবনা বাস্তবায়ন হোক। খ-িত বাংলা নয়, অখ- বাংলা চাই।

আসাম ইস্যু : অনতিবিলম্বে সীমান্ত বন্ধ করতে হবে

ড. তুহিন মালিক : অনতিবিলম্বে সীমান্ত বন্ধ করুন। বিজিবির পাশাপাশি সীমান্তে সেনাবাহিনী নামান। কাশ্মীরে ভারতীয় আগ্রাসনকে ভারতের ‘অভ্যন্তরীণ বিষয়’ বলে স্বীকার করেছে বাংলাদেশ সরকার! কিন্তু এবার আসামের প্রায় বিশ লাখ মানুষকে বাংলাদেশি নাগরিক বলে বাংলাদেশে বিতাড়নের যে উদ্যোগ ভারত সরকার গ্রহণ করেছে, সেটাও কি ভারতের ‘অভ্যন্তরীণ বিষয়’ বলে স্বীকার করবে বাংলাদেশ সরকার? দেশ বিভাগ ও যুদ্ধকবলিত এই উপমহাদেশে মাইগ্রেশন একটি বহু পুরনো এবং স্বীকৃত ইস্যু। ভারতের জ্যোতি বসু, সুচিত্রা সেন, সমরেশ মজুমদার, পাকিস্তানের সাবেক প্রেসিডেন্ট পারভেজ মোশারফ, বাংলাদেশের সাবেক প্রেসিডেন্ট এইচ এম এরশাদ তারা সবাই মাইগ্রেট করেছে নিজ রাষ্ট্র থেকে প্রতিবেশী রাষ্ট্রে।

কিন্তু এই স্বীকৃত ইস্যু নিয়ে সর্ব আসাম গণসংগ্রাম পরিষদ গঠন করে বাংলাদেশি খেদাও আন্দোলনের নামে সংখ্যালঘু মুসলিম খেদাও মিশন নিয়ে ১৯৭৯ থেকে ১৯৮২ সাল পর্যন্ত তিন শাতাধিক মুসলিম হত্যা এবং দেড় হাজারের বেশি মুসলমানকে আহতের ঘটনা ঘটানো হয়েছে। ১৯৮৩ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৭ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে আসামের মরিগণ জেলায় মোহাম্মাদ হোসেন নামের এক স্বতন্ত্র প্রার্থী হেমান্দ্র নারায়ণ নামের এক প্রার্থীকে হারিয়ে বিপুল ভোটে জয়লাভ করেন। হেমান্দ্র নারায়ণ পঁচিশ বছর ধরে ওই এলাকা শাসন করে আসছিলেন। এতে করে গণসংগ্রাম পরিষদ প্রতিশোধ নেশায় পাগল হয়ে যায়। যার ফলে ১৮ ফেব্রুয়ারি সংঘটিত হয় নীল গণহত্যা। ছয় ঘণ্টা স্থায়ী এই হত্যাযজ্ঞে পাঁচ হাজার মুসলিম হত্যা করা হয়েছিলো। যার মধ্যে অধিকাংশ ছিলো নারী ও শিশু। এরপর ২০১২ সালে আসামের কোকড়াঝড় শহরে আবারও মুসলিমবিরোধী দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়ে। ভূমির মালিকানা নিয়ে মুসলিমবিরোধী এ দাঙ্গায় ৪৩ জন নিহত ও কয়েকশ আহত হয়।

আসলে ভারতের উগ্র হিন্দুবাদী সরকার শুধুই আসামের মাটি চাইছে, আসামের ভোট চাইছে। আসামের মাটি তাদের প্রিয়, আসামের মানুষ নয়। আর এটাকেই বলে ‘পোড়ামাটি নীতি’। যেমনটা তারা কাশ্মীরে চেয়েছে। বাংলাদেশের সামনে এটা এক কঠিন দুঃসময়। বাংলাদেশ সরকারকে স্পষ্ট করে বলতে হবে, ভারতের বিশ লাখ মানুষকে বাংলাদেশি নাগরিক বলে বাংলাদেশে বিতাড়নের প্রচেষ্টা ভারতের ‘অভ্যন্তরীণ বিষয়’ নয়। এটার সঙ্গে বাংলাদেশের স্বার্থহানিই ঘটবে সবচেয়ে বেশি। এই কথা বাংলাদেশ সরকারকে বিশ্ববাসীর সামনে প্রকাশ্যে বলতে হবে। সর্বাত্মক কূটনৈতিক প্রচারণা চালাতে হবে। দলমত নির্বিশেষে এ বিষয়ে জাতীয় ঐক্য গড়ে এই আগ্রাসনের জোর প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।

অনতিবিলম্বে সীমান্ত বন্ধ করতে হবে। তিন স্তরের সীমান্ত চেকপোস্ট বসাতে হবে। বিজিবির পাশাপাশি সীমান্তে সেনাবাহিনী নামাতে হবে। যেকোনো রকমের পুশ-ইনের কঠোর জবাব দিতে হবে। একটা পুশ-ইন হলে দশটা পুশব্যাক করে জবাব দিতে হবে। যেহেতু এটা ভারতের একটি ধর্মীয় ইস্যু। তাই সবার আগে আমাদের নিজেদের ধর্মীয় সম্প্রীতি সুরক্ষিত রাখতে হবে। এটা ভারতের হিন্দু-মুসলিম ইস্যু। আর তাই কোনোভাবেই এটাকে আমাদের হিন্দু-মুসলিম ইস্যু বানানো যাবে না। এটা ভারতীয় নাগরিকত্বেরও ইস্যু। ভারতের উগ্র হিন্দুবাদী সরকার আসামের সংখ্যালঘু মুসলিমদের বাংলাদেশের নাগরিক বলে বাংলাদেশে বিতাড়নের যে নগ্ন খেলায় নেমেছে, বাংলাদেশ রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এর কঠিন থেকে কঠিনতম প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। জাতীয় স্বার্থে নোবেল কিংবা মানবতার আম্মা উপাধির লোভ সংবরণ করতে হবে। ভারতকে যা দিয়েছেন, ভারত তা কখনোই সারাজীবন মনে রাখবে না! হ্যাঁ বিনিময়ে ভারত শুধু তার বিশ লাখ নাগরিক বাংলাদেশকে দিয়ে দেবে। ফেসবুক থেকে

একজন সায়ীদ স্যার এবং স্তাবকদলের হিপোক্রেসি

নাসরিন শাপলা : সায়ীদ স্যারের ‘শাড়ি’ বিষয়ক লেখাটির প্রতিবাদে অনেক লেখা হয়েছে, অনেক কথা হয়েছে। আমারও যা লেখার ছিলো তা দুই বাক্যে লিখে ফেলেছি। লেবু আর কচলাতে ভালো লাগছে না। আমার এই লেখাটি মূলত স্যারের ডিফেন্স টিমের সদস্যদের উদ্দেশ্যে। আমার হালকাভাবে একটা বিশ্বাস ছিলো যে, অন্তত স্যারের এই লেখাটিকে কেউ ডিফেন্ড করতে আসবে না। আমার সেই হালকা বিশ্বাস যে কতোখানি পলকা, সেটা বুঝতে লেগেছে মাত্র কয়েক ঘণ্টা। ডিফেন্স টিম মাঠে নেমে পড়েছেন তাদের সর্বশক্তি নিয়ে। তাদের ডিফেন্স হলো… আমরা দলবেঁধে সবাই নাকি বয়স্ক একজন মানির মান নিয়ে টানাটানি করছি। এখন প্রশ্ন হলো মান কি জিনিস? তাদের ‘মান’ শব্দের প্রয়োগ থেকে আমার কাছে মনে হয়েছে মান হচ্ছে এক ধরনের কচু জাতীয় গাছ।

এই গাছের সর্বোচ্চ শিখরে যিনি একবার আরোহণ করবেন, তিনি সারাজীবনের জন্য একেবারে নিশ্চিত। তার আর বিশেষ কোনো দায় দায়িত্ব নেই। মান গাছের সর্বোচ্চ শিখরে চড়ে তিনি যতো বর্জ্যই ত্যাগ করুন না কেন, তা আমাদের হাসিমুখে গ্রহণ করতে হবে। আর একদল স্তাবক দায়িত্ব নিয়েছেন সেই মান গাছের যেন কোনো নড়নচড়ন না ঘটে সেটা প্রতিরোধ করার, পাছে মাননীয় এই ধরায় নেমে আসেন। ধন্য এই স্তাবকগোষ্ঠীর মাননীয় প্রীতি। স্তাবকগোষ্ঠীর এই জাতীয় চিন্তাভাবনা আমাকে ভাবায় বটে। সঙ্গে আমি খানিকটা শঙ্কিতও বটে যখন দেখি এই দলে আছেন ছোট-বড় ‘সো কল্ড’ বুদ্ধিজীবীর দল। আসলে অন্যায়ের প্রতিবাদের বিষয়ে আমাদের অনেকের মাঝেই ব্যক্তিগত একটা হিসাব-নিকাশ থাকে। যতোক্ষণ না কোনো অরুচিকর কথা বা অন্যায় আচরণ নিজের দরজায় এসে কড়া না নাড়ে, ততোক্ষণ সেটা নিয়ে সবার মাথা না ঘামালেও চলে… এই নীতিতেই যেন অধিকাংশ মানুষ চলছে আজ। যারা মানি-গুণী লোকের ছায়াতলেই নিজেদের ইমেজ গড়েন, সেখানে মাননীয়ের ইমেজে দাগ লাগলে তাদের খানিকটা অসুবিধা হয় বৈ কি। এর আগেও সায়ীদ স্যারের কথার প্রতিবাদ করে এই দলের তোপের মুখে পড়েছি। প্রবাসী মেধাবী, প্রবাসী শ্রমজীবী, নারী, শাড়ি কিছুই আর তার জিভের আগলে থাকছে না। আবার সেই প্রবাসীদের আমন্ত্রণেই চলছে প্রবাস ভ্রমণ। ভাবছি স্যারের কথা আর কাজের মাঝের এই স্ববিরোধিতার শেষ কোথায়?

স্খলনবিহীন মানুষ এই পৃথিবীতে হাতে গোনা। মানুষের ভুল থাকবে, ত্রুটি থাকবে এটাই স্বাভাবিক। স্খলনকে কার্পেটের নিচে চাপা দেয়াটাও খুব কাজের কথা নয়। দিলেও তার দুর্গন্ধ ছড়ানো বন্ধ থাকে না। তবে স্খলন স্বীকার করার এবং তার দায়িত্ব নেবার মতো মানসিক দৃঢ়তা দেখানোটা অন্তত আশা জাগায়। তাতে হারানো সম্মান খানিকটা ফিরেও আসে। স্তাবকেরা বরঞ্চ এই লাইনে চিন্তা করে দেখতে পারেন। না হলে ভবিষ্যতে আপনার মেয়ে বা বোনের শাড়ির ভাঁজে কেউ সাহিত্য আর সংস্কৃতির নামে বাঁক খুঁজলে মুখটা কোথায় লুকাবেন, সেই জায়গাটা মনে মনে ঠিক করে রাখলে ভালো হয়। তবে এর মাঝেও ভালো লেগেছে দেখে যে এবার প্রতিবাদটা শুধু নারীদের কাছ থেকে নয়, এসেছে পুরুষদের কাছ থেকেও। সুতরাং আশা ছাড়ার এখনো কিছু হয়নি। এই সমাজে এখনো এমন পুরুষ আছেন যারা সায়ীদ স্যারের এই লেখার মাঝে তাদের মায়ের অবমাননা দেখেন, বোনের অবমাননা দেখেন, মেয়ের অবমাননা দেখেন আর সর্বোপরি মানুষের অবমাননা দেখেন। তাদের জন্য ভালোবাসা। আর হ্যাঁ একটা কথা… এই লেখা পড়ে দয়া করে আবার কেউ আমাকে নারীবাদী ট্যাগ লাগাবার চেষ্টা করবেন না। কথা দিচ্ছি স্যারের মেধা, প্রজ্ঞা আর বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের মতো মহাযজ্ঞ বাদ দিয়ে কেউ যদি তার পাঞ্জাবি, সিক্স প্যাক বা উচ্চতা নিয়ে কোনো বিদ্রƒপ করার চেষ্টা করে, সেক্ষেত্রেও আমার কলম একইভাবে তার প্রতিবাদ করবে। ফেসবুক থেকে

নারীকে ভাঙতে গড়তে পুরুষ বিধাতার মতো ক্ষমতাধর

মুন তাসলিমা শেখ : বাঙালি নারীর শাড়ি ছিলো এক খ- কাপড়। সায়া বা ব্লাউজ তখনো আবিষ্কার হয়নি। কেউ সে প্রয়োজনীয়তাও বোধ করেনি। সারা শরীর ঢাকতে এ বারো হাত কাপড় ব্যবহার হতো। ঠাকুরবাড়ির বউরা ব্লাউজের প্রবর্তন করেন। সে ব্লাউজ ছিলো একটি জ্যাকেটের মতো। সে জ্যাকেট পরাতে চারপাশে ছ্যা ছ্যা পরে গেলো। ছিঃ ছিঃ বাঙালি নারীরা দেখি মেম হয়ে গেলো। জাতপাত আর থাকলো না। সে ব্লাউজের আজকের বিবর্তন দেখলে জ্যাকেটের কথায় হাসি আসবেই। এভাবে সময় ‘শালীন’ পরিবর্তনকে ‘অশালীন’ এবং ‘অশালীন’কে ‘শালীন’ এবং ‘যৌন আবেদনময়ী শালীন’ করে। যদিও সে কিস্তিতে ব্লাউজ এসে নারীকে নিম্ন শ্রেণির নারী থেকে আলাদা করে গেলো। এভাবে শাড়ি ব্যবহারের রীতি ও অনুষঙ্গ নিম্নএবং উচ্চ শ্রেণির নারীকে শ্রেণিতে বিভাজিত করে।

মেয়েদের পর সায়া এবং ব্লাউজ ধনী এবং ইংরেজি শিক্ষিত নারীরা পরতে শুরু করে। এমনকি কুঁচি দিয়ে পরার ধরনও ঠাকুরবাড়ির বউয়েরা প্রবর্তন করেন। এ পরিধেয় বস্ত্রটি এবং তার অনুষঙ্গ এ অঞ্চলের নারীদের পোশাক যা এক জায়গায় একইভাবে কোনোদিন ছিলো না ঠিক যেমন পুরুষের পোশাকও বিভিন্নভাবে বিবর্তিত হয়েছে। নেংটি ছিলো বাঙালি পুরুষের পোশাক। একটি অঞ্চলের পোশাক সেখানকার জলবায়ু এবং স্থানীয় মেটেরিয়ালের ভিত্তিতে বিবর্তনের ভেতর দিয়ে চলে। অনেক দেশে এখনো মেয়েরা শুধু কাঁচুলী পরে। যৌনময়ী হওয়ার জন্য নয়, এটা তাদের আঞ্চলিক বস্ত্র হিসেবেই তারা পরে।

কোনো কোনো কালচারে নারীর পোশাক টপলেস। তারা সেভাবেই জীবনযাপন করে। সন্তান উৎপাদন, স্তন্যদান সব তারা সেভাবেই করে। বয়সের সঙ্গে নারীর স্তন বিভিন্ন রূপ নেয়। তরুণী, বৃদ্ধা সবার উপরের অংশ খোলা থাকে এবং সেটাই তাদের পোশাক। তাদের উন্মুক্ত বক্ষের কাব্য রচনা শুধু সে কারণে করা রীতিমতো ধর্ষণ। কিন্তু কোনো পুরুষ বা নারী লেখক যদি তার গল্পে, গল্পের প্রয়োজনে মিলনের দৃশ্য বর্ণনায় বা অন্য প্রেক্ষাপটে নারীর দেহ বল্লরীর মোহনীয়তা বর্ণনা করেন সেটি সেই গল্প বা উপন্যাসের কল্পিত চরিত্র এবং সে চরিত্ররসহ চরিত্র সম্পর্কিতভাবে তৈরি হয়। সেটি তার ফ্যান্টাসি। সেটি পাঠক পরবে বা ভাঁজ করে রেখে দেবে সেটা সে পাঠকের বিষয়। কিন্তু কোনো একটি অঞ্চলের নারীর শরীরের উপরের অংশ উন্মুক্ত বলেই আপনি কলম নিয়ে সে অঞ্চলের নারীর স্তন বর্ণনার কাব্য শুরু করবেন, তারিয়ে তারিয়ে রস কাব্য করবেন, সেটি সেই অঞ্চলের নারীদের ইন্টিগ্রিটির উপর আপনার যৌন থাবা। আর কিছু নয়। আমাদের পুরুষেরা সাহিত্য সৃষ্টি করেছে তাদের ইচ্ছে অনুসারে। নারী একটি অবজেক্ট।

তাকে পোশাক পরানো, পোশাক খোলা তারা তাদের ইচ্ছে অনুযায়ী করেছে। রবীন্দ্রনাথ পর্যন্ত বলেছেন, ‘শুধু বিধাতার সৃষ্টি নও তুমি নারী, পুরুষ গড়েছে তোরে সৌন্দর্য সঞ্চারী’ অর্থাৎ নারীকে তারা তাদের মতো ভাঙতে গড়তে বিধাতার মতো ক্ষমতাধর। সে ক্ষমতায় টান ধরেছে সে খবর একটি শিশু বুঝলেও কেবল তাদের কর্ণকুহরে প্রবেশ করেনি। ফেসবুক থেকে

আসাম ভারতের ভূ-রাজনৈতিক খেলার অংশ?

আজম খান : আমি মনে করি না, আসামের জীবনমান, আয়, বাংলাদেশের চাইতে ভালো। বাংলাদেশে একজন শ্রমিক দৈনিক মজুরি ৩০০-৪০০ টাকা এখন এমনিতেই পায়। শহরে সেইটা আরও বেশি। আসামে বড়জোর এটার কাছাকাছি হবে। বেশি হওয়ার প্রশ্নই আসে না। বাংলাদেশ থেকে অনেক হিন্দুরা নির্যাতিত হয়ে ভারতে গেছেন। তাদের কেউ কেউ আসামে থাকতে পারেন। যদি ভারত সরকার পর্যাপ্ত প্রমাণ দিতে পারে তবে তাদের বাংলাদেশ সরকার প্রমাণ সাপেক্ষে ফিরিয়ে আনুক এবং পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করুক। এইছাড়া আমি আসামে কোনো বাংলাদেশি আছে বলে বিশ্বাস করি না। বাংলাদেশ ভারত-জাপানের কারণে চীনকে দেয়া গভীর নৌ-সমুদ্র বন্দরের কার্যাদেশ ফিরিয়ে নিয়েছিলো। তার প্রতিশোধ নিতে চীন তার পোঁদ বালক মিয়ানমারকে দিয়ে রোহিঙ্গা শরনার্থী পাঠিয়েছিলো। এখন ভারতও বাংলাদেশকে শরনার্থী পাঠানোর হুমকির মুখে রেখে বাংলাদেশে নিজের একতরফা ভূ-রাজনীতির ষোলোকলা পূর্ণ করতে চাইছে।

এই দুটো শরণার্থী সংকটই এই অঞ্চলের দুই বড় দেশের ভূ-রাজনীতির লড়াইয়ের ফলাফল। তাদের সবার কথা, ছোট বাংলাদেশ আমার পক্ষে একতরফা নেই কেন! এই হইলো এই জমানার নব্য ঔপনেবিশকতার চরিত্র। অবশ্য বাংলাদেশের ছাগলদের মতে বাংলাদেশ ভারতের পকেটে ঢুকে বসে আছে। যদি ঢুকেই বসে থাকতো তবে আজকে এই সংকট দেখতে হইতো না। যাই হোক, এখন একটাই দাবি সীমান্ত বিশেষ করে সিলেট সীমান্ত পুরাপুরি সিল করে দেয়া হোক। যদি কাউকে ফেরত আনতে হয় তবে সেটা হতে হবে যথাযথ প্রমাণের ভিত্তিতে। দুই দেশ যৌথভাবে একটা কমিটি করে সেসব যাচাই বাছাই করতে পারে। তবে সেক্ষেত্রে বাংলাদেশের সদিচ্ছা আর ভারতের সৎ সাহসটা এখানে গুরুত্বপূর্ণ। ফেসবুক থেকে

ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের স্বার্থরক্ষার জন্য শেখ হাসিনার বাইরে আর কাউকে দেখছি না

মুনশি জাকির হোসেন : ভারতের বিরোধিতা করার শতশত যৌক্তিক কারণ আছে, এগুলো কোনোটি রাজনৈতিক, কোনোটি অর্থনৈতিক, কোনোটি কূটনৈতিক, কোনোটি সামাজিক। ভারতের বিরোধিতার জন্য সবচেয়ে বেশি দরকার বঙ্গবন্ধুর মতো দূরদৃষ্টি সম্পন্ন রাজনৈতিক নেতৃত্ব। যেখানে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরও অনেক দেশে এখনো সেনা ছাউনি আছে সেখানে বঙ্গবন্ধু ৩ মাসের মধ্যেই ভারতীয় সেনা ফেরত পাঠাতে পেরেছিলেন! মুজিব-ইন্দ্রিরা ২৫ বছরের মৈত্রী চুক্তিকে বাংলাদেশের আওয়ামীবিরোধী চক্র গোলামী চুক্তি বললেও ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত সেই চুক্তি রদ করার সাহস কোনো সরকার/রাজনৈতিক নেতৃত্ব দেখাতে পারেনি। মূলত ওই চুক্তির সমালোচনা ছিলো অনর্থক।

ভারত-বাংলাদেশ সমস্যার শুরু পঁচাত্তরের পরে, দশকের পর দশক সেটি আরও অবনতি হয়েছে, এগুলোর জন্য ৭৫-১৯৯৬ পর্যন্ত সকল সরকার দায়ী। বর্তমান বাংলাদেশে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের স্বার্থরক্ষার জন্য শেখ হাসিনার বাইরে আর কাউকে দেখছি না। শেখ হাসিনা যদি ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের স্বার্থরক্ষা করতে না পারেন তাহলে আর কেউ পারবেন না। শান্তিচুক্তি, ছিট মহল সমস্যা, সমুদ্রসীমা মামলা এসব বিষয় শেখ হাসিনার একক রাজনৈতিক সফলতা। সীমান্তে বাংলাদেশি হত্যা এক সময়ে বছরে ৭০০ হতো, এখন বছরে ২০-এ নেমে এসেছে, (সীমান্ত হত্যা কেন শুরু হলো, কবে শুরু হলো, অতীতে কারা দায়ী, বর্তমানে কারা দায়ী, সেসব নিয়ে আলাদা বিস্তর আলোচনা আছে।) ১৯৯৬-২০০১ সালে শেখ হাসিনা ভারতে গিয়েছিলো গঙ্গা পানি চুক্তি করার জন্য! শেখ হাসিনা মজা করে সাংবাদিকদের বলেছিলেন, আওয়ামী লীগ যতোদিন ক্ষমতায় থাকবে গঙ্গা পানি চুক্তির মেয়াদ ততোদিন, ২০০১ সাল পর্যন্ত! আবার ক্ষমতায় আসলে আবার নবায়ন করবে! এর জবাবে, বিএনপি কান্নাকাটি শুরু করে দিয়েছিলো। বিএনপি বলা শুরু করলো, আওয়ামী লীগ দেশের স্বার্থ দেখে না, দলের স্বার্থ দেখে। আসলে বিএনপি জানতো, এই পানি চুক্তি বিএনপি কেন, আর কেউই করতে পারবে না। এই কারণে, ১৯৯১-৯৬ সালে খালেদা জিয়া ভারত সফর শেষে দেশে ফিরে পানি সমস্যার কী হলো? এই প্রশ্নের জবাবে বলেছিলেন, এই বিষয়ে আলোচনা করতে ভুলে গিয়েছিলাম! ফেসবুক থেকে

‘অচল’ বিটিভি কি ভারতে সচল হবে?

মোস্তফা ফিরোজ : সকালে ফেসবুক খুলে একজনের পোস্ট দেখে খুবই হাসি পেলো। তিনি লিখেছেন, সরকার এই প্রথম অচল বিটিভি ভারতে রপ্তানি করে সাফল্য অর্জন করলো। আমি কিন্তু তার এই মন্তব্যের সঙ্গে পুরোপুরি একমত নই। যাই হোক না কেন, তারপরও তো ভারতে বাংলাদেশের একটি টিভি সম্প্রচার হচ্ছে। কিন্তু ওই পোস্টের লেখক কি কারণে অচল বিটিভি বলছে তার কারণ অনুধাবন করতে পারি। এটা যে বিটিভির দোষ সেটাও নয়।

এটা যে সরকারের দোষ সেটাও নয়। তাহলে কার দোষ? এটা মনে হয় ঐতিহ্যগত দোষ। সেটা হচ্ছে বিটিভি বহুদিন থেকে সরকারদলীয় প্রচার-প্রচারণার মধ্য দিয়ে এমন একটা চরিত্র ধারণ করেছে যে, তা থেকে কোনোভাবেই বের হয়ে আসতে পারছে না। এরশাদ আমলে বিটিভিকে বলা হতো সাহেব বিবি গোলামের বাক্স। এরপর কি বিএনপি, কি আওয়ামী লীগ, একই ধারায় বিটিভি চলেছে। মাঝে দুই একবার তত্ত্বাবধায়ক সরকার এসে কিছুটা পরিবর্তন করেছে।

কিন্তু নির্বাচন হবার পর যেই লাউ সেই কদু। এখন ভারতে যখন বিটিভি দেখা যাবে তখন এর সংবাদ ও আলোচনার মান দেখে সে দেশের জনগণ এই দেশের গণতন্ত্র বা মতপ্রকাশের বহুমুখী স্বাধীনতার বিষয়ে ইতিবাচক কোনো ধারণা পোষণ করবে না। ভারতীয় জনগণ মনে করতে পারে বাংলাদেশে একতরফা শাসন ব্যবস্থা চলছে। আবার নাটক সিনেমাসহ অন্যান্য অনুষ্ঠানের মানও এতো উন্নত না যে সেটা দেখে তারা আকৃষ্ট হবে। ফলে এখন যেভাবে সরকারি কর্মকা- প্রটোকল অনুযায়ী ফলাও করে প্রচার হয় সেটাই যদি সম্প্রচার করা তাতেও ভারতের সচেতন দর্শক শ্রেণি উদ্বুদ্ধ হবে না। তাহলে ভারতে বিটিভি প্রচার করলে কে দেখবে? যদি নাই দেখে তাহলে লাভ কি হবে? তার চেয়ে বেসরকারি চ্যানেলগুলো যদি ভারতে সম্প্রচার হতো তাহলে বাংলাদেশ সম্পর্কে ভারতীয় জনগণ কিছুটা জানতে পারতো। সেটা কবে হবে কে জানে। ফেসবুক থেকে

নিরাপদ সড়ক নীতিমালায় প্রতিকারের বিধানগুলো যথাযথ পালন করলে দুর্ঘটনার হার কমবে

লাভা মাহমুদা : একজন কৃষ্ণা রায় চৌধুরী। একজন হতভাগ্য মানুষ। ফুটপাথে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় যার পায়ে বাস উঠিয়ে দেয়া হয়। প্রাণ বাঁচাতে দু’বারের অপারেশনে হাঁটুর উপর থেকে কেটে ফেলতে হয়। শুরু হবে সারাজীবনের জন্য পঙ্গুত্ববরণ অথবা কৃত্রিম পায়ে স্বাভাবিক জীবনের প্রাণান্তকর চেষ্টা। অসংখ্য যন্ত্রণার এই দেশে নতুন করে আরেক যুদ্ধ শুরু হয় কৃষ্ণা এবং তার মতো হতভাগ্য যারা, তাদের এবং এই যুদ্ধ এতোই আকস্মিক যেকোনো ধরনের প্রস্তুতি নেয়ারও সুযোগ থাকে না। কৃষ্ণা তবুও কিছুটা ভাগ্যবান। তিনি জীবনে বেঁচে গেছেন। দিয়া, করিম, রাজীব, নাজিমুদ্দিন, তারেক মাসুদ, মিশুক মুনিরের মতো হতভাগ্যরা শামিল হয়েছেন সড়কে মৃত্যুর মিছিলে।

প্রতিদিন এমন দুর্ভাগ্যের তালিকায় যোগ হচ্ছে কতো কতো নাম। কতোজনেরইবা খোঁজ জানি আমরা। শৃঙ্খলাহীন এদেশে সবচেয়ে বড় বিশৃঙ্খলার নাম সড়ক পথ। প্রতিদিন সড়কে কতো কতো অমূল্য প্রাণ চলে যাচ্ছে, কতোজন আহত বা পঙ্গুত্ববরণ করে দুঃসহ যন্ত্রণায় দিন পার করছে। মুহূর্তে তছনছ হয়ে যায় সাজানো গুছানো একেকটা সংসার, কতো স্বপ্ন ভেঙে খান খান হয়ে যায়। রঙিন স্বপ্ন নিয়ে দিন শুরু করা মানুষগুলোর দুঃস্বপ্নই হয়ে যায় নিত্যসঙ্গী। আমাদের এই দেশে প্রতিদিন যতো দুর্ঘটনা ঘটে, তার সর্বাগ্রে সড়ক দুর্ঘটনা। সড়কে দুর্ঘটনা ঘটবে এটা যেন নিয়মে পরিণত হয়েছে। সংবাদপত্রের পাতায় বা টিভিতে যখন এসব খবরে চোখ যায়, আমরা বেদনার্ত হই, কষ্ট পাই, আমাদের হৃদয় মুষড়ে ওঠে। আবার নতুন ঘটনা ঘটলে আগেরগুলো ভুলেও যাই। অথচ ভুক্তভোগী সেই পরিবারগুলো জানে কী নিদারুণ যন্ত্রণার জীবন শুরু হলো, কী বিভীষিকা তাড়া করছে তাদের। গত বছর নিরাপদ সড়কের দাবিতে ব্যাপক ছাত্র বিক্ষোভ হলেও পরিস্থিতির দৃশ্যত কোনো পরিবর্তন নেই। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, দেশে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৬৪ জন মানুষ সড়কে প্রাণ হারায়। আর আহত ও পঙ্গুত্বের হিসেব নিলে দেখা যাবে সংখ্যাটা মন্দ নয়। আজকাল শহর থেকে শুরু করে গ্রামেও রাস্তায় হেঁটে বা যানবাহনে চলাফেরা রীতিমতো বিপজ্জনক হয়ে দাঁড়িয়েছে।

১৬ কোটি জনসংখ্যার এই বিপুল জনগোষ্ঠীর চলাফেরার জন্য সড়ক পথ যথেষ্ট কম। স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবার পর বাংলাদেশের সড়ক পথের যথেষ্ট উন্নতি সাধিত হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ২১ হাজার কিলোমিটার পাকা রাস্তা রয়েছে যার মধ্যে মাত্র ৪৮ শতাংশ মহাসড়ক। অপরদিকে এদেশে শুধু মোটর যানবাহনের সংখ্যাই প্রায় ৬ লাখ। রিকশা, ভ্যান, সাইকেল, ঠেলাগাড়ি, অটোরিকশা ইত্যাদি অগণিত। সাম্প্রতিক এক সমীক্ষায় দেখা গেছে উন্নত দেশের তুলনায় এগুলো আমাদের দেশে প্রায় ৩০ গুণ বেশি। আমাদের দেশে সড়কে নানাবিধ কারণে দুর্ঘটনা ঘটে… বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো, অদক্ষ ও লাইসেন্সবিহীন চালক নিয়োগ, নিয়ম ভঙ্গ করে ওভার লোডিং ও ওভারটেকিং করার প্রবণতা, চালকদের দীর্ঘক্ষণ বিরামহীনভাবে গাড়ি চালানো, ট্রাফিক আইন যথাযথভাবে অনুসরণ না করা, ত্রুটিপূর্ণ গাড়ি চলাচল বন্ধে আইনের যথাযথ প্রয়োগের অভাব এবং ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক ও বেহাল সড়ক।

সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিকারে সবার আগে প্রয়োজন সচেতনতা এবং আইনের প্রতি শ্রদ্ধা। সাবধানে গাড়ি চালানোর জন্য চালকদের উদ্বুদ্ধ করা, লাইসেন্স প্রদানের পূর্বে চালকের দক্ষতা ও যোগ্যতা ভালোভাবে যাচাই করা। সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু হলে দুর্ঘটনায় দায়ী ব্যক্তির শাস্তির মেয়াদ এবং পরিমাণ আরও বাড়ানো, জাল লাইসেন্সের বিষয়ে খুবই শক্ত অবস্থান নেয়া, গাড়ি চালানোর সময় ড্রাইভারকে মোবাইল ফোন ব্যবহার থেকে বিরত রাখা, রাস্তায় পরিবহনে চাঁদাবাজি বন্ধ করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা, ফুটপাথ দখলমুক্ত করে পথচারী চলাচলের উপযোগী করে তোলা, গাড়ির ধারণ ক্ষমতার বাইরে মালামাল ও যাত্রী বহন বন্ধ করা, ট্রাফিক আইনের যথাযথ প্রয়োগ করা। তবে বাস্তবতা হলো, যেকোনো কারণেই হোক আমরা এই দুর্ঘটনা ন্যূনতম সংখ্যায় নামিয়ে আনতে বরাবরই ব্যর্থ হচ্ছি। সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, গণপরিবহন নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা, মালিক-শ্রমিক সংগঠনসহ সবাই উদ্যোগ নিলে সড়ক দুর্ঘটনা কমিয়ে আনা সম্ভব। বস্তুত নিরাপদ সড়ক নীতিমালায় প্রতিকারের বিধানগুলো যথাযথ পালন করলে দুর্ঘটনার হার নিশ্চিতভাবেই কমবে। নইলে সড়কে মৃত্যুর মিছিলে শামিল হবো আমি, আপনি, আমাদের সন্তান কিংবা স্বজন, অকস্মাৎ মায়াময় এ পৃথিবীর হাতছানি উপেক্ষা করে চলে যেতে হবে অন্য কোথাও, অন্য কোনোখানে। লেখক: শিক্ষক ও কলামিস্ট

আসাম ইস্যুতে আপাতত চিন্তিত হওয়ার কিছু নেই, তবে শিগগিরই সেই পরিস্থিতি তৈরি হবে

মোস্তফা কামাল : বন্ধু রাষ্ট্র ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ঢাকায় এসে স্পষ্ট করে বলে গেছেন যে, ‘আসামের নাগরিকপঞ্জি নিয়ে উদ্ভুত সমস্যাটা ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়, এতে বাংলাদেশের চিন্তার কোনো কারণ নেই’।

আমি বলবো, আপাতত নেই, তবে শিঘ্রই হবে। এই মুহূর্তে বাংলাদেশের সরকার বন্ধুরাষ্ট্র ভারতের অফিসিয়াল বক্তব্য মেনে নিয়েছে, অবশ্য মেনে না নিয়েও উপায় নেই, এটাই বন্ধুরাষ্ট্র নীতির প্রটোকল। তবে সরকারের উচিত এখনই এই বিষয়টি নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা ভাবনা শুরু করা, এই ঘটনার প্রতিক্রিয়া কী কী হতে পারে, তার পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশের অবস্থান ও যুক্তি কী হতে পারে, সে সম্পর্কে পরিষ্কার একটা মোকাবিলা প্ল্যান তৈরি রাখা। সরকারের প্রথমেই একটা কাজ করা উচিত , সেটা হলো বন্ধুরাষ্ট্র ভারতকে অফিসিয়াল চ্যানেলে জানানো যে, ঠিক আছে আমরা তোমাদের অফিসিয়াল বক্তব্য গ্রহণ করলাম, তাহলে তোমরা একটা জিনিস এখন নিশ্চিত করো যে, কোনো দায়িত্বশীল বিজেপি নেতা মন্ত্রী যেন এই বিষয়ে বাংলাদেশের নাম জড়িয়ে কোনো বক্তব্য না দেয়।

যদি কোনো বিজেপি নেতা মন্ত্রী এই ব্যাপারে বাংলাদেশের নাম জড়িয়ে বক্তব্য দেয়, তাহলে সেটার পেপার কাটিংসহ অফিসিয়াল প্রতিবাদ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ভারতে নিয়মিত পাঠানোর ব্যাবস্থা করা উচিত। এটা পরিষ্কার , ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শংকর রায়ের বক্তব্যের সঙ্গে বিজেপি নেতা অমিত শাহ বা আসামের অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যে আকাশ পাতাল তফাৎ। ফেসবুক থেকে

আসামে হাজার বছর ধরে গড়ে ওঠা বৈচিত্র্য ও সমন্বয়বাদী ধারা পাল্টে দিতে চাইছে বিজেপি

শেখ রোকন : অহমিয়া ভাষায় ‘ধুমুহা’ অর্থ ঝড় বা দুর্যোগ। ভূপেন হাজারিকার গানে আছে ‘পদ্মা নদীর ধুমুহাত পরি কতো শতোজন আহিলে/লুইতর দুয়ো পারে কতো না অতিথি আদরিলে’। বোঝাই যাচ্ছে, পদ্মপাড়ের দুর্যোগ কবলিত মানুষের লুইতের দুই পাড়ে সাদর বসতির কথা বলা হচ্ছে। উজান আসামে ব্রহ্মপুত্রের আরেক নাম লুইত বা বুঢ়া লুইত।

ভূপেন হাজারিকা যেসব অহমিয়া গান বাংলাতেও গেয়েছেন, তার মধ্যে না থাকলেও ‘মহাবাহু ব্রহ্মপুত্র’ গানটি আমার খুবই প্রিয়। অহমিয়া ভাষাতেই প্রায়শই শুনি। ব্রহ্মপুত্র কীভাবে যুগ যুগ ধরে নানা ভাষা, সংস্কৃতি, জাতি ও ধর্মের ‘মহামিলনর তীর্থ’ হয়ে আসছে এবং ‘সমন্বয়র অর্থ’ প্রকাশ করে আসছে, গানের প্রতিপাদ্য সেটাই। ভারতের কেন্দ্রীয় ও আসামের রাজ্য সরকারে ক্ষমতাসীন বিজেপি স্বভাবতই আসামে হাজার বছর ধরে গড়ে ওঠা এই বৈচিত্র্য ও সমন্বয়বাদী ধারা পাল্টে দিতে চাইছে। আপাত ‘ধুমুহা’ তৈরি করতে পারলেও শেষ পর্যন্ত পাল্টাতে পারবে কিনা জানি না। ফেসবুক থেকে